সুন্দরীদের সুরৎ হাল

আঁধার রঙের দীঘল কোমল কেশ

যুগল ভ্রু চৌদিকে, চক্ষু পটল চেরা

শরীরে ঢেউ দোলে, চিকন কটিদেশ

বাঁশীর মত নাক, নোলক মনোহরা

দখিন হাওয়ায় দোলে কানের দুল

ওষ্ঠদ্বয় রাঙা অতি, কাঁপে থিরথির

রিনিঝিনি কাঁকন বাঁজে মোহিত আঙুল

ঝুমুর ঝুমুর বাজে পায়ের নুপুর।

সুন্দরী রমনী চলে ছলাৎ ছলাৎ

সুরেলা কথা বলে আহলাদি ঢঙএ

পড়শী মুখটিপে কয়, অন্য রঙএ

গুরুজী পক্ষপাতিত্ব করে অকস্মাৎ,

যুবকেরা অকারনে পিছু পিছু চলে

বান্ধবীরা অহেতুক হিংসায় জ্বলে।

Advertisements

ধ্বান্ত

খুব চুপিচুপি পালিয়ে গেছে ধ্বান্তারি

রোদ আলো হাওয়া হয়েছে দেশান্তরি,

দূর্বার বেগে ধাবমান দানব ধ্বান্ত

হায়েনার ভয়াল হা বিকশিত দন্ত,

এখনি গাঙচিল, বাউল হবে বলি

এখনি ধর্ষিতা হবে জয়নব, জলি।

বিপন্ন মানবিকতা বিষন্ন বিবেক

ভয়ার্ত চিৎকারে প্রকম্পিত চৌদিক।

আশ্রয় দাও ধরিত্রী, হও দিখন্ডন

দিকবিদিক জ্ঞান শুন্য মানুষ জন

পৃথিবীর সকল জীব ভীত সন্ত্রস্ত

পাখ-পাখালী ভয়ে ভাবনায় উদ্ভ্রান্ত

কে আছো কান্ডারী দেখাবে মুক্তির পথ

আলোক বর্তিকা হাতে, সাথে লয়ে রথ।

শুদ্ধ শিক্ষা উৎকর্ষ জীবন

আমাদের ঝিনাইদহ এটিআই

যার কোন তুলনা নাই,

শুদ্ধ শিক্ষা উৎকর্ষ জীবন

আমরা সকলে করেছি ধারন,

ছাত্র ছাত্রী আমরা ভাইবোন

সৌহার্দ্য সম্প্রীতি আমাদের বন্ধন,

একের বিপদে আমরা সবাই

কাহারো কোন ভয় নাই,

শিক্ষক মন্ডলী মোদের গুরুজন

জ্ঞানী গুনি আর প্রিয়জন,

সকলে মিলে শিখি, লিখি, পড়ি

উন্নত জীবন গড়ি।

আমাদের আছে শিখি করি খাই

এমন উদ্যোগ কোথাও নাই,

জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করি

নিজের হাতে আবাদ করি,

বিষমুক্ত সব্জি পাই

স্বাস্থ্য ঝুকির চিন্তা নাই,

বিক্রি করি নিজেরা খাই

শিক্ষা সহায়ক বৃত্তি পাই।

খেলাধূলা করি স্বাস্থ্য গড়ি

দূর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা লড়ি,

আমরা শক্তি আমরা বল

কোনখানে নই দূর্বল,

অবশ্যই মোরা করবো অর্জন

শুদ্ধ শিক্ষা উৎকর্ষ জীবন।

২৮/০৮/২০১৯

মা ২৬/০৮/২০১৯

তোমরা দেখেছো কি কেউ ?

মা’সে আমার কোথায় চলে গেল

দিন দুপুরে আলোর মেলা

খেলবো নাতো লুকোচুরি খেলা,

তবু কেন পাইনে খুজে মাকে ?

আমার চোখ ভেঙে যে কান্না চলে আসে

মা কি আমার রাগ করেছে ভারি ?

কই আমি কোন দোষতো করিনি

তবু মা’কে কেন আমি পাইনে খুজে হেথা

হেথা নয় হোথা নয় পাবো গেলে কোথা ?

মা’কে আমার তোমরা বুঝি চিনতে পারনি ?

মা’সে আমার মেঘের মত কালো

এই দুনিয়ার সবার চেয়ে ভালো

আদর করে খাইয়ে দেয়

মধুর সুরে ঘুম পাড়ানী গান গায়।

কতক্ষন খাইনি কিছু আমি

ক্ষুধার জ্বালা সইতে পারি না

মা কেন আজ খাইয়ে দিল না

তোমরা কেন খাবার দিলে ?

মা না এলে কিছুই খাবো না।

তোমরা সবে মা’কে বলোনা

এখন আমার ঘুম পেয়েছে

একটি ছোট গান যেন সে গায়,

কোনদিন আমায় ফেলে কোথাও থাকে না

আজকে কেন এত বেলা ফিরে আসে না ?

তবে কি সে মরেই গেল ?

তা যদি হয় আমিও তবে সংগে যাবো

মরেই যাবো,যাবোই যাবো।

অতিশয় জঘন্য

১৫/০৭/২০১৯

শেখ মুজিবুর রহমান

জাতিরপিতা তুমি যে মহান

বঙ্গুবন্ধু তুমিই কীর্তিমান

আপন কর্মে হইয়াছ মহিয়ান

তোমাকে পেয়ে আমরা ধন্য।

কৃষকের হাসি সবুজ শস্যক্ষেত

আঁকাবাঁকা সর্পিল মেঠো আলপথ

দখিনা বাতাস, স্বচ্ছ নদীর জল

মুক্ত বিহঙ্গ বহিতেছে অবিরল

সকলই তোমার জন্য।

আজ নির্ভয়ে বাড়ী ফেরে রাখাল

গলা ছেড়ে গান গায় বিবাগী বাউল

উন্মুক্ত শহীদমিনার

থেমে গেছে মিছিল দূর্নিবার

মুক্তির ডাক দিয়েছিলে তুমি যে অনন্য।

নিত্যদিন পথেরধারে গাছের ছায়ায়

বংশীবাদক মনখুলে বংশী বাজায়

ডুরেকাটা শাড়ি পরে খুকুমণি

পুতুল খেলে, বনে যায় গিন্নি

সবখানে কেবল তুমিই স্মরণ্য।

হায়েনার দখলমুক্ত পিচঢালা রাজপথ

নববধুর হাসিতে নড়ে শখের নথ

ঝর্ণার কুলুকুলু পাখির কাকলি

পেয়েছি তোমার জন্য সবগুলি

ছিল নাকো পথ তুমি ছাড়া অন্য।

স্বাধীন বাংলাদেশের তুমিই স্বপ্নদ্রষ্টা

৭ই মার্চের জ্বালাময়ী ভাষনের তুমিই স্রষ্টা

তুমিই একটি পতাকা, অখন্ড মানচিত্র

তুমিই মোদের মুক্তির সনদপত্র

তুমিই সোনালী সূর্য তুমি বরেণ্য।

তোমারই বুকে একদিন হায়েনার দল

দম্ভভরে বিদ্ধ করিল শেল

তোমার গগনবিদারী চিৎকার

ভেদ করে গেল হৃদপিন্ড পৃথিবীর

রাখাল রাজা ধূলিতে লুটায়

বাংলার মাটি মায়ের মমমতায় আশ্রয় দেয়

তোমাকে হারিয়ে বাঙালী হইলো নিঃস্ব

অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলো বিশ্ব

বাঙালী জাতির কপালে চিরদিনের জন্য

অংকিত হলো পিতা হন্তারকের চিহ্ন

এই কলঙ্ক তিলক অতিশয় জঘন্য।

নক্ষত্রহীন আকাশ

১৬/০৩/১৯৯০

মাথার উপর নক্ষত্রহীন আকাশটা ঝুলছে

ষাটোর্দ্ধো বৃদ্ধের তুবড়ানো চোয়ালের মতো,

নিকষ কালো অমাবস্যার অন্ধকারে ভুতুড়ে

সন্ত্রস্ত প্রকৃতির নিস্তব্ধতা

গোগ্রাসে গিলছে মানবিকতা

শেয়াল শকুনের উল্লসিত চিৎকারে

খন্ড বিখন্ডিত চিন্তা চেতনা,

উচ্ছিষ্ট নিয়ে কাড়াকাড়ি করে বেওয়ারিশ কুত্তা

আর কঙ্কালসার মানুষেরা,

নর্দমায় মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে জারজ নবজাতক

কারো চোখে পড়ে না।

নিকষ কালো আকাশে দূর্যোগের বিদ্যুৎ

ঝলকায় মুহুর্মুহু,

সাইক্লোন, বন্যা, খরা উপর্যুপরী ধ্বংসলীলায়

সয়লাবের বহ্নি জ্বলছে দাউদাউ

পরিত্রানের পথ হারিয়ে গেছে

নক্ষত্রহীন আকাশের ঘন অন্ধকারে।

নক্ষত্ররাজীতে ঝলমল বাংলার আকাশ এখন

নক্ষত্রহীনতায় পুষ্টহীন মায়ের মত ঝুছছে,

সূর্যগ্রহনে আলো ঝলমলে রোদ দেশান্তরী

চাঁদনি রাতের নিখোজ সংবাদ বহুবার

পত্রিকা, পোষ্টার, দেয়াল লিখনেল

বাঙময় হয়েছে এই বাংলায়,

নক্ষত্রেরা সব একে একে মরে গেছে

৫২, ৬৯, ৭১, ৭৫ এ

এবং

অজস্র অখ্যাত মিটিং, মিছিল, হরতালে

সৈরাচারের বুটের তলায়

বন্দুকের নলে, বেয়নেটের ডগায়

ঘাতক ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে।

নক্ষত্রহীন আজ বাংলার আকাশ,

চারিদিকে দূর্যোগের ঘনঘটা।

মুক্তি আর আলোর প্রতিক্ষায়-

অতিষ্ট হৃদয়ের ক্রন্দন,

অন্ধকারের যন্ত্রনায় বিদগ্ধ আত্মার চিৎকার

শুন্য থেকে মহাশুন্যে মিলায়

ফলাফল শুন্যই থেকে যায়।

শেষ চাওয়া

হয়ত এই গায়ে আর কোনদিন আসবো না

হয়ত আর কোনদিন তোমার সাথে দেখা হবে না

এই যাওয়া যদিগো আমার শেষ যাওয়া হয়

ক্ষমা করে দিও মোরে যদি কোন ভূল হয়

দুয়ারে দাড়িয়ে রয়েছে রথ

পাড়ি দিতে হবে অনেকটা পথ

সময় নাইকো আর

যেতেই হবেগো এবার

বিদায় বন্ধু বিদায়

এবার আমি যায়।

জানি অবসরে পড়বে মনে বারবার

স্মৃতিগুলো যত আছে তোমার আমার

এই মেঠো পথ সোনালী ধান

রাখালের বাশির সুর বাউলের গান

পাখ পাখালীর কিচিমিচি

হুতুম প্যাচার চেচামেচি

সবুজ শ্যামল শস্য ক্ষেত

শেয়াল কুকুরের হল্লা রাতবিরেত

কোকিলের সুমধুর ডাক

পাহারাদারের হায়দারী হাক।

আবার কখনও যদি আসিগো ফিরে

নিওগো আমায় আপন করে

আর কিছু নয় এইটুকু শেষ চাওয়া

এজীবনে হয়ে গেছে সব পাওয়া।