আজ ভালোবাসা দিবস

আজ ভালোবাসা দিবস

পোষ্ট অফিস মোড়ের ভিখারী

পঙ্গু ছেলেটি আজ বিসন্ন।

একজন মৌসুমী ফুল বিক্রেতা

রাস্তার ওপারে সম্পূর্ণ অস্থায়ী

একটি টেবিলের ওপর

ফুলের পসরা সাজিয়ে বসেছে,

হরেক রকম ফুল

না, শিমুল-পলাশ নয়

মাধবীলতা, রক্তমালা, মনিকাণ্চন

গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস

কৃষ্ণচূড়া হয়তোবা রাধাচূড়াও আছে।

আছে ফুলের ডালি

ফুলের মালা, একক ফুলের

আলাদা আলাদা স্টিক।

২০,৩০,৫০,১০০ হরেক রকম দাম সেসবের।

উপচে পড়া ভীড় সেখানে

ছেলে থেকে বুড়ো কিংবা

কিশোরী থেকে বৃদ্ধা

এককথায় বললে আবালবৃদ্ধবনিতা

সারি বেঁধে কিনছে সব। অথচ

অদূরে ভিখ্মাঙা ছেলেটির

সুমুখে পেতে রাখা ভাঙ্গা থালাটি

এখনও শূন্য,

তার অবিরাম আকুতি কেউ শুনছেই না।

বেলা বারোটা বাজলো প্রায়।

দুপুরে কি খাবে ? ভালোবাসা ?

আজ যে ভালোবাসা দিবস।

সবাই সবাইকে দিচ্ছে ভালোবাসা।

Advertisements

বাসন্তি মেয়ে

বসন্ত এসে গেছে।

লাস্যময়ী উচ্ছল দুরন্ত

নুপুর নিক্কনে ঝংকারিত

একটি মেয়ে যার

সারাদেহে ঝিলমিলিয়ে খেলিছে

উদিত সূর্যটার কৃষ্ণচূড়া রং,

রাধাচূড়ার বৈষ্ণবী সাজ

পরনে সরিষা ফুলের হলুদ গেরুয়া বসন

কপালে শিমুলের লাল টিপ

খোপায় গাঁদার ফুল

ঠোট দুটো রেঙেছে পলাশের

চোখ ঝলসানো লালে

গলায় দুলিছে

রোদ ঝলমলে আগুন রঙের মালা

কোকিলের কুহুতানে গুন্জন তুলে

গান গেয়ে গেয়ে

একটি লাল একটি সাদা আরো

একটি গোলাপী গোলাপ হাতে

উচ্ছলতায় লাফিয়ে লাফিয়ে

দৌড়ে দৌড়ে এপার ওপার করিছে

যে মেয়েটি তার নাম বাসন্তি।

বসন্ত এসে গেছে।

একুশ এসেছে

ঘুম ভাংতেই

ভোরের হাওয়ায় ভেসে এল

বারুদের গন্ধ।

বাতাসে কান পেতে শুনতে পেলাম

গগন বিদারী মিছিলের শব্দ

রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।

থেমেথেমে বন্দুকের গর্জন

আহাজারি চিৎকার চেঁচামেচি-

দৌড়াদৌড়ী,

আকাশে রক্তের লাল-লাল

ছোপ-ছোপ দাগ,

রক্ত রঙিন রঙে রন্জিত পলাশ ফুল

বিসন্ন বদনে শিমুলেরা সব

মুখ থুবড়ে পড়ে আছে বৃক্ষতটে

গাছে গাছে ঝরা পাতার ক্রন্দনরোল

পায়ের নীচে শুকনো পাতাদের মড়মড়ানি

চারিদিকে কানাকানি আজ

একুশ এসেছে।

বুকের বাম দিকে

একটি চিনচিনে ব্যথার অনুভূতি-

“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো

একুশে ফেব্রুয়ারী,

আমি কি ভুলিতে পারি।”

রাজনীতির হালচাল

রাজনীতি তার রাজার নীতির ভাবগাম্ভীর্যটি হারিয়ে এখন চিটিংবাজ, গুন্ডা, সন্ত্রাসী আর টোকাইদের মিছিলে। জাতীয় সংসদে আইনপ্রণয়নের জন্য নির্বাচন করেন, সাংসদ নির্বাচিত হন টাকাওয়ালা ব্যবসায়ীর দল।ছাত্রদের ছাত্র রাজনীতিতে জায়গা হয়না, ছাত্রজীবন শেষে স্ত্রী-সন্তান-পরিজন নিয়ে ঘোরতর সংসারী যারা তারাই ছাত্রনেতা। কৃষক-শ্রমিকদের নেতা হয়ে আছেন কেতাদুরস্ত শহুরে বাবু। “সাধারন মানুষের কল্যানের জন্য রাজনীতি” এই বাক্যটি নিছক কথার কথা অথবা মন ভোলানো বক্তৃতা, আসলে রাজনীতি এখন নিজের কল্যানের জন্য। ঋনখেলাপী, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজি, জবরদখল, খুন-জখম ছিনতাই-রাহাজনি সবটার সাথে এখন রাজনীতির নিবিড় দহরম-মহরম। এরা একে অন্যের পরিপূরক।

ছাত্র রাজনীতি, ছাত্র নেতা ও ছাত্র সংসদ

  • ছাত্র রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য ছাত্র-অধিকার/ছাত্রস্বার্থ সংরক্ষণ না হয়ে যদি হয় রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন তাহলে এত ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিয়ে ছাত্র নেতা বানিয়ে কি লাভ। সাধারন ছাত্রের ভাগ্যের তো কোন পরিবর্তন হবে না। ছাত্র যোগ্যতায় হলে সীট পাওয়া যাবে না, সীটগুলো থাকবে ক্যাডরদের দখলে। গরীব মেধাবী ছাত্রগুলো উপায়ন্তোর না পেয়ে মেসবাড়ীর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোনমতে দিনযাপন করবে আর হলগুলো থাকবে অছাত্র ছাত্রনেতাদের কব্জায়। গোলাগুলি দুইদল সন্ত্রাসীর আন্তঃ কোন্দলে মারাযাবে নিরীহ অবুঝ ছাত্র। মিছিল হবে, মিটিং হবে রাজনীতির কুটকৌশলে, বলির পাঠা হবে সাদাসিদে ছাত্রগুলো। ছাত্রজীবন শেষ হলেও যদি ছাত্র নেতার আসনে আসিন থাকা যায়, ছাত্রত্ব না থাকলেও যদি হলে থাকা যায় তাহলে ছাত্র সংসদ ছাত্র নেতা বানিয়ে কি লাভ। খাক সব লাওয়ারিশ লেংটি কুত্তার দল কামড়া-কামড়ি করে কেড়ে-কুড়ে খাক। নামকাওয়াস্তে ভোটাধিকার, ছাত্রাধিকার, ছাত্র সংসদের কোন প্রয়োজন নেই।

আক্ষেপ

অবসর আর জুটলো কোথায়

কিছু লিখবার।

সারাদিন রুটি রুজির ধান্দাবাজি

ফুরসত কোথায় একটুখানি ভাববার।

চারিদিকে হৈ হট্টগোল

অর্থহীন চিতকার চেচামেচি

অবকাশ কোথায় চিন্তা করবার।

নাই নাই, চাই চাই

অহর্নিশি আহ্লাদ আব্দার বায়না

পথ কোথায় পালাবার।

পরিশ্রান্ত ক্লান্ত দেহমন

ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখের পাতা

অলসতা সৃজনশীলতায়

শক্তি কোথায় রাত জাগবার-

কিছু লিখবার। না,

সত্যিই এ জীবনে আর কিছু হলোনা।

ইউনিভার্সিটি হল

ইউনিভার্সিটি হল

চলে গেছে হিংস্র হায়েনার দখলে

ছেলেটা নামকরন করেছে যুতসই

“বিড়িখোর টোকাই”। তারমতে

বিড়িখোর টোকাইদের পদলেহন করে

হলে বসবাস করা সম্ভব নয়। অদ্ভূত-

যেখানে যার ন্যায্য অধিকার

সেখানে তার স্থান হয় না

(বোধকরি বললে ভূল হবে না)

লাওয়ারিশ চতুষ্পদ জন্তুরা

রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে যাদের

গায়ের সব লোম উঠে নেড়া/নেড়ি

হয়ে গেছে তবুও পড়ে আছে,

আকড়ে ধরে ধরে আছে।

যার জমিন তার গন্ধ পেলেই

দাত ভেংচিয়ে তেড়েমেড়ে আসে,

কেউ ভয়ে/ঘৃনায় পালিয়ে বাঁচে

কেউবা আপোষ করে নির্লজ্জ সহবাস করে।

এর নাম কি রাজনীতি ?

অপদখল জবরদখল কিংবা

অন্যের অধিকারটি হরন করা।

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে আজ

বিদ্যার্থীদের স্থান হয়না

কে জানে দেখবার কোনো

লিগ্যাল গার্জিয়ান আছে কি-না।